বিশেষ প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বরং বিপুল খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক, তারল্য সংকট এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ধীরগতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে ৩২ টাকার বেশি এখন খেলাপি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের এই বড় বোঝা ব্যাংকগুলোর মূলধন ও ঋণ দেওয়ার সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জুলাইয়ে ২৯টি ব্যাংককে ছয় মাসের সময় দিয়ে খেলাপি ঋণ নির্ধারিত মাত্রায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের বেশি, তাদের তা ২০ শতাংশের নিচে নামাতে বলা হয়েছে।
এদিকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যাংক আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এখনো মন্থর। মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ফলে শিল্প ও ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগে ব্যাংকঋণের জোগান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত কিছুটা বেড়েছে। মে শেষে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের উদ্যোগ দেখা গেলেও সংকটের মূল জায়গাগুলো এখনো অমীমাংসিত। খেলাপি ঋণের পাহাড় কমানো, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন, আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো—আগামী ছয় মাসে এসবই হবে সরকারের বড় পরীক্ষা।
Posted ১২:২৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s